tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিদেশে গণতন্ত্র হাঁটতেই শেখেনি, সেখানে পিআর পদ্ধতি ধ্বংসাত্মক: রিজভী

দেশে গণতন্ত্র হাঁটতেই শেখেনি, সেখানে পিআর পদ্ধতি ধ্বংসাত্মক: রিজভী

বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেখানে এখনো পরিপক্ব হয়নি, সেখানে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন ধ্বংসাত্মক এবং জনগণের জন্য বিভ্রান্তিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো শক্ত ভিত্তি অর্জন করেনি। তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে তা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দল বা মহল নিজেদের সুবিধার জন্য বিষয়টিকে সামনে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের পিআর পদ্ধতি নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই এবং অধিকাংশই এ সম্পর্কে অবগতও নয়। এটি জনগণের পরিচিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত ভোটাধিকার প্রয়োগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানুষ তাদের এলাকার পরিচিত প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়, অপরিচিত দলীয় তালিকা ভিত্তিক প্রার্থীদের ভোট দেওয়া তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা অভিযোগ করে বলেন, যখনই কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে, একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি তাদের সুবিধা দেবে, তখন সেটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে। উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন বানচাল করা।

রিজভী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পিআর পদ্ধতির কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমনকি ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশও এ বিষয়ে নতুনভাবে ভাবছে। বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিকভাবে অপরিণত দেশে এই পদ্ধতি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। যেমন ইভিএম ব্যবহারের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল, তেমনি পিআর পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগও বিপজ্জনক হতে পারে।

তিনি বলেন, বিএনপি গত ১৬-১৭ বছর ধরে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে থাকবে। কিন্তু পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে তা কেবল পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করবে। এতে দেশে নতুন করে ভয়াবহ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে বিভ্রান্তিকর আলোচনা না করে বরং বাস্তবসম্মত ও জনগণকেন্দ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।