tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েল

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েল

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও কর্মী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি নাগরিক।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি একপর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।

এ সময় সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে গিয়ে পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেটিকে ভূপাতিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক সেকেন্ডে ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় উড়োজাহাজ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এরপর আগে থেকে নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। একটি বিশেষ কমিটি দ্রুত বৈঠকে বসে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানো এবং ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তবে উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ না করে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যাওয়ায় সেটিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানোর প্রয়োজন হয়নি। এ সময় সৌদি আরবও নিজেদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।

পাইলট ও যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করেন

সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরিস্থিতির একপর্যায়ে পাইলট হামাম আল-হামামিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হন এবং ককপিটের দরজা খোলেন। পরে উড়োজাহাজে থাকা কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা কথিত হামলাকারীকে কাবু করেন।

এ সময় দায়িত্বে না থাকা আরও দুজন পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তারা সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করেন।

ছিনতাই হলে কীভাবে ব্যবস্থা নেয় ইসরায়েল

সিবিএস নিউজের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগে থেকেই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

কোনো উড়োজাহাজ ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে আসার পর মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে যুদ্ধবিমান পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা উড়োজাহাজটির কাছে গিয়ে ককপিট ও কেবিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সম্ভব হলে পাইলটের সঙ্গে চোখের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

কেবিনে আতঙ্ক বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কোনো চিহ্ন দেখা গেলে সেই তথ্য বিমানবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে জানানো হয়।

যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে উড়োজাহাজটি ছিনতাই হয়েছে এবং কথিত ছিনতাইকারীরা কোনো বেতার যোগাযোগ করছে না বা দাবি জানাচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে আসা কোনো নিয়ন্ত্রণহীন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে আকাশেই ভূপাতিত করার বিকল্পও এই জরুরি ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামাম আল-হামামিকে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি দাবি করেছেন বলে জানা গেছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তার পরিকল্পনা ছিল পাইলটকে হত্যা করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পরে সেটিকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ভূপাতিত করা।

সিবিএস নিউজের সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাটি সম্ভবত একজনের পরিকল্পনায় পরিচালিত হামলার চেষ্টা। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় এখনো তদন্তাধীন।

ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছিলেন হামামি

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম আল-হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর প্রায় আট মাস কাজ করেছিলেন। পরে মুছে ফেলা একটি পেশাগত পরিচিতি পাতায় একই নামের একজনের তথ্য পাওয়া যায়।

সেখানে উল্লেখ ছিল, তিনি ওমান এয়ারে প্রায় সাত বছর কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই বিমান সংস্থা ছেড়ে দেন।