নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে ১৩ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে আলমগীরকে আটক করা হয়।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথার কারণে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায় সে। ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি সেখানে ঝাড়ফুঁকের কাজও করতেন আলমগীর।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে সেরে যাবে বলে শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান আলমগীর। সেখানে তাকে নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি শারীরিক ব্যথার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেন তার বাবা।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজকে কেন্দ্র করে রতন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ হয়েছিল। আলমগীরের দাবি, একটি পক্ষ টাকা দাবি করে তা না পাওয়ায় শিশুটিকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ানো হয়েছে। পরে পরিবারকে প্ররোচিত করে মামলা করানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান জানান, শিশুটির বাবা শনিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি হওয়ার পরই ওই রাতে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে তাকে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।



