সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন অবশেষে জারি হয়েছে। নতুন এ বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও সুবিধা পাবেন—বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির নিয়ম থাকায় এখন তাদের অপেক্ষা সেই পৃথক আদেশের।
প্রশ্ন উঠেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে আলাদা প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে?
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত জনবলকে নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে শিগগিরই পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের কাজও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এসব বিষয়ে কাজ চলছে এবং শিগগিরই পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
সেপ্টেম্বরেই বাড়তি বেতন মিলবে?
এদিকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা চলতি সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বর থেকে—অর্থাৎ অক্টোবর মাসের বেতন হিসেবে—নতুন স্কেলের বর্ধিত অর্থ হাতে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে না। কারণ, আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিলের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ মুহূর্তে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গেও নতুন কাঠামোর বর্ধিত অর্থ যুক্ত হতে পারে।
অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার তথ্য আইবাস++ সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিতে হয়। প্রতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এসব তথ্য পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার তথ্য জমা দিয়েছে। অনেকে আগামীকাল রোববার তথ্য পাঠাবে। এ কারণে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার পর্যন্ত আইবাস++-এ বেতনের তথ্য পাঠানোর সময় রয়েছে। সরকার চাইলে সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত বেতন দেওয়া সম্ভব। তবে সেই সম্ভাবনা কম। আগামী নভেম্বর থেকে, অর্থাৎ অক্টোবর মাসের বেতন হিসেবে, সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
নতুন পে স্কেলের সুবিধা ধাপে ধাপে
নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন স্কেলে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন স্কেলের বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন।
সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এই বাড়তি অর্থের হিসাব করা হবে গত ৩০ জুন একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী যে মূল বেতন পেয়েছেন, তার ভিত্তিতে।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ম ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন স্কেলের বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন।
সবশেষে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পুরোপুরি, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।
এ হিসাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে এখন মূল অপেক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হওয়ার কথা।



