tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশখালার রিভিশন মামলা খারিজ, ৩ বছরের শিশুর জিম্মা বাবার কাছেই

খালার রিভিশন মামলা খারিজ, ৩ বছরের শিশুর জিম্মা বাবার কাছেই

বরগুনায় তিন বছর চার মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে বাবার জিম্মায় রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। শিশুটির খালা সারমিন সুলতানা আসমার করা ফৌজদারি রিভিশন মামলা খারিজ করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন আদালত।

আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা জিম্মা সংক্রান্ত আইনি বিরোধের অবসান ঘটল। একই সঙ্গে শিশুটি তার বাবা মো. সোলায়মানের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বলে নিশ্চিত হলো।

মামলার নথি অনুযায়ী, বরগুনা সদরের বাসিন্দা মো. সোলায়মানের স্ত্রী মোনালিসা জেরিন গত বছরের ৬ জুন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর পর তাদের একমাত্র মেয়ে মোসা. রুকাইয়া ইসলাম ইয়ানাকে কার জিম্মায় রাখা হবে, তা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।

শিশুটির খালা সারমিন সুলতানা আসমার দাবি ছিল, জন্মের পর থেকেই ভাগ্নিকে তিনি লালন-পালন করে আসছেন। তার অভিযোগ, শিশুটির বাবা তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছেন। এ অভিযোগে তিনি গত ২৭ মে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় মামলা করেন।

পরে আদালতের নির্দেশে গত ৪ জুন পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে এবং বাদীর জিম্মায় দেয়। মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য নির্ধারিত তারিখে রাখা হয়।

এরপর ১৮ জুন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি নথিভুক্ত করেন এবং শিশুটিকে তার বাবা মো. সোলায়মানের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। ওই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে সারমিন সুলতানা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা করেন।

বুধবার রিভিশন মামলার শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে শিশুটির জিম্মা তার বাবার কাছেই থাকল।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট অনুযায়ী বাবা নাবালক সন্তানের স্বাভাবিক ও আইনগত অভিভাবক। বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় এবং সন্তানের হেফাজত তার কাছেই থাকলে সেটিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় ‘অন্যায় আটক’ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

আইনজীবীর আরও বক্তব্য, শিশুটির প্রয়াত মায়ের সঙ্গে বাদীপক্ষের আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা ছিল। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, শিশুটির দাদি সুস্থ ও সক্ষম হওয়ায় বাবা ও দাদির যৌথ তত্ত্বাবধানে শিশুটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ ও কল্যাণ সুরক্ষিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।