“প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেল বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছে। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ মোট ২৮টি পদের মধ্যে বেশিরভাগেই বিজয়ী হয়েছে এই প্যানেলের প্রার্থীরা।
ভিপি পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১৪,০৪২ ভোট, জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০,৭৯৪ ভোট, এবং এজিএস পদে মুহা. মহিউদ্দীন খান পেয়েছেন ১১,৭৭২ ভোট। নির্বাচন শেষে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সিনেট ভবনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
ডাকসুর ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়া ১৩টি সদস্যপদের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জয়ী সম্পাদকদের তালিকা (ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল):
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক: ফাতেমা তাসনিম জুমা
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: ইকবাল হায়দার
- কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক: উম্মে ছালমা
- আন্তর্জাতিক সম্পাদক: জসীমউদ্দিন খান (জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো)
- ক্রীড়া সম্পাদক: আরমান হোসেন
- ছাত্র পরিবহন সম্পাদক: আসিফ আব্দুল্লাহ
- ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক: মাজহারুল ইসলাম
- স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক: এম এম আল মিনহাজ
- মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক: মো. জাকারিয়া
স্বতন্ত্রভাবে বিজয়ী সম্পাদকরা:
- সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
- গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: সানজিদা আহমেদ তন্বি
- সমাজসেবা সম্পাদক: যুবাইর বিন নেছারী
৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন। এছাড়া ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১,০৩৫ জন প্রার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯,৮৭৪ জন, যার মধ্যে ছাত্রী হলগুলোতে ১৮,৯৫৯ এবং ছাত্র হলগুলোতে ভোটার ছিলেন ২০,৯১৫ জন।



