ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে—লিওনেল মেসি নাকি অন্য কেউ? দীর্ঘদিনের সেই বিতর্কে এবার সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে নিজের ক্যারিয়ারের অর্জনের ‘রসিদ’ দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যতিক্রমী পোস্ট প্রকাশের পরই তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মেসির পোস্টটি ছিল অনেকটা রেস্তোরাঁর বিল বা কেনাকাটার রসিদের আদলে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অর্জনকে সেখানে একের পর এক ‘আইটেম’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো সময় এবং জাতীয় দলের হয়ে জেতা গুরুত্বপূর্ণ শিরোপার পাশাপাশি ছিল আরও নানা পরিসংখ্যান।
নতুন একটি ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রতীকী রসিদে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো স্থান পেয়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ের মতো সাফল্যও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। সবশেষে দেওয়া হয়েছে আলোচিত বার্তা—‘GOAT debate—settled’।
মেসির এমন পোস্টের সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার অবসরের সিদ্ধান্তের পর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখনই নিজের অর্জনকে এমন প্রতীকী উপায়ে তুলে ধরলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা অবশ্য সবসময় সাফল্যময় ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২০১৬ সালে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন মেসি। পরে সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় দলে ফিরে আসেন।
এরপর বদলে যায় গল্প। ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের আন্তর্জাতিক শিরোপাখরা কাটে। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে মেসি দুটি গোল করেন এবং টাইব্রেকারেও সফল হন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এর আগে ফিনালিসিমা ও অলিম্পিক স্বর্ণপদকও জিতেছেন মেসি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তার ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য।
বিশ্বকাপেও মেসির পরিসংখ্যান তাকে আলাদা করে রেখেছে। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই তারকা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের একজন। গোলসংখ্যার দিক থেকেও তিনি শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ক্যারিয়ার ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন ও সাফল্যের এক দীর্ঘ গল্প। সেই গল্পেরই যেন সংক্ষিপ্ত হিসাব তুলে ধরেছেন প্রতীকী ‘রসিদে’।
ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে—এই বিতর্ক হয়তো কখনোই পুরোপুরি শেষ হবে না। তবে নিজের অর্জনের ‘রসিদ’ সামনে রেখে মেসি যে নিজের অবস্থান সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী, তার বার্তা স্পষ্ট—‘GOAT debate—settled’।



