জামালপুরের বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। তারা সম্পর্কে সহোদর ভাই।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন মানিক সওদাগর। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে মানিক সওদাগরকে বলতে শোনা যায়, বকশীগঞ্জে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে গত ১৭ বছরে নজরুল ইসলাম ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাকে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে দলের ভেতরে যারা এখনো ‘ভালো হননি’, তাদের দ্রুত ভালো হওয়ার আহ্বান জানান।
মানিক সওদাগর বলেন, “একটা লোক যদি বলতে পারে যে এই নজরুল ইসলাম সওদাগরকে দিয়ে আমার কোনো ক্ষতি হয়েছে, চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও দাবি করেন, নজরুলকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে নজরুল ইসলাম ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শে নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।
নজরুল ইসলাম সওদাগর কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বকশীগঞ্জ পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, একসময় তিনি উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে যুবলীগে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন এবং ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থান ঘিরে বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশ একটি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনটি মামলা করেন। এসব মামলার অধিকাংশ আসামি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী হলেও নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিষয়টি জানতে পেরে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরপর ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একাধিক মামলায় প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন।
নিজের বক্তব্যের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বলেন, “যা সত্য, তাই বলেছি। এটুকুই আমার বক্তব্য।”
তবে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি বলেন, দলীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, এ বক্তব্য নিন্দনীয়।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জামালপুর-১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।



