শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই বছর বয়স পর্যন্ত অপুষ্টির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময়ে শিশু পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার না পেলে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে অপুষ্টি তৈরি হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং সাধারণ সংক্রমণও অনেক সময় গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
শিশুর অপুষ্টির ধরন
শিশুর অপুষ্টি সাধারণত কয়েক ধরনের হতে পারে—
- ক্যালরির ঘাটতিজনিত অপুষ্টি (ম্যারাসমাস)
- আমিষের ঘাটতিজনিত অপুষ্টি (কোয়াশিওরকার)
- খাদ্যপ্রাণের ঘাটতিজনিত অপুষ্টি, যেমন ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি
- খনিজ পদার্থের ঘাটতিজনিত অপুষ্টি, যেমন আয়রন, আয়োডিন ও জিংকের ঘাটতি
অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ
মুখমণ্ডল:
- মুখ ফুলে যাওয়া (বিশেষ করে কোয়াশিওরকারে)
চোখ:
- চোখ শুষ্ক হওয়া
- রক্তস্বল্পতা
- ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে বিটোট স্পট দেখা দেওয়া
- চোখের চারপাশে ঘোলাটে ভাব
মুখ ও দাঁত:
- মুখের কোণে ঘা
- জিহ্বায় ঘা ও লালচে ভাব
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া (ভিটামিন ‘সি’-এর ঘাটতি)
- দাঁত দেরিতে ওঠা বা দাঁতে দাগ দেখা দেওয়া
চুল ও ত্বক:
- চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও সহজে উঠে যাওয়া
- চুলে লালচে ভাব
- ত্বক টানটান হওয়া বা শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জমা
- ত্বক ঝুলে যাওয়া ও শরীর হাড্ডিসার হয়ে যাওয়া (ম্যারাসমাসে)
- ত্বকে ঘা হওয়া
নখ ও মাংসপেশি:
- নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হওয়া
- মাংসপেশি দুর্বল ও থলথলে হয়ে যাওয়া
- খিঁচুনি হওয়া
অন্য লক্ষণ:
- হাড় দুর্বল বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
- পেট বড় দেখানো (পানি জমা বা যকৃত বড় হওয়ার কারণে)
- শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হওয়া
- স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
- খিটখিটে মেজাজ
শিশুর অপুষ্টি প্রতিরোধে করণীয়
- স্বাস্থ্যকার্ড অনুযায়ী নিয়মিত শিশুর ওজন মাপতে হবে।
- জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ দিতে হবে।
- ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
- ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার শুরু করতে হবে।
- শিশুকে সময়মতো ও নিয়মিত টিকা দিতে হবে।
- গর্ভবতী ও প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
- ডায়রিয়া শুরু হলে দ্রুত খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে।
- ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ার মতো অসুস্থতার পর শিশুকে অতিরিক্ত একবেলা খাবার দিতে হবে।
- পরিবার পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্তান নেওয়ার মধ্যে ৩ থেকে ৫ বছরের বিরতি রাখা ভালো।
- ছয় মাস বয়সের পর থেকে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
- প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে (চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী)।
শিশুর ওজন, উচ্চতা, খাওয়ার অভ্যাস বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



