ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের তেল পরিবহন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এরপর ওয়াশিংটন এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর প্রথম দফায় অবরোধ আরোপ করে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন করে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের পর দেশটির সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির নেটওয়ার্ক এখনও ইরানের তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ৫০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানি কর্তৃপক্ষকে আর্থিকভাবে লাভবান করতে সহায়তা করেছে।
এ ছাড়া শামখানির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ২০০টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের তথ্যও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি ইরানের সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানির ছেলে। আলি শামখানি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, তিনি নিহত হন।
সূত্র: বাসস



