tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদটপ নিউজনতুন ভিসানীতি-২০২৬ অনুমোদন

নতুন ভিসানীতি-২০২৬ অনুমোদন

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটন বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে ভিসানীতি-২০২৬-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, নীতিমালাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এতদিন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত পারস্পরিকতার (রেসিপ্রোসিটি) নীতি অনুসরণ করা হতো। অর্থাৎ, অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশকে যত দিনের বা যে ধরনের ভিসা দিত, বাংলাদেশও সেই দেশের নাগরিকদের একই সুবিধা দিত। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো বিদেশি ব্যবসায়ী যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে আসেন, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে চায়।

নাসিমুল গনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনা। সে কারণে ভিসা নীতিকে সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করবে।

তিনি জানান, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। জাতীয় নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং পর্যটন খাতের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালাটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে তারা দ্রুত দেশে এসে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, “দেশে অভ্যন্তরীণ পুঁজির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করছি।”

নতুন নীতিমালায় ভিসার ক্যাটাগরি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এতে মোট ৩৪ ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ভিসানীতি-২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া নীতিমালার খসড়া আরও পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।