tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিক্রেতা কম, তবু কমেনি বাজারের চাপ; বেড়েছে মুরগির দাম

ক্রেতা কম, তবু কমেনি বাজারের চাপ; বেড়েছে মুরগির দাম

কোরবানির ঈদের ছুটি শেষ হলেও রাজধানীর বাজারগুলো এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এর সঙ্গে বৃষ্টির কারণে বেচাকেনাও হয়েছে ধীরগতিতে। তবে ক্রেতা কম থাকলেও মুরগির দাম বেড়েছে, আর সবজির বাজারও আগের মতো চড়া রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস ও ডিমের অনেক দোকান এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। মুরগির দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশ বিক্রেতাকে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বাজারে আসা বেশিরভাগ মানুষ ভিড় করছেন সবজির দোকানগুলোতে।

শনির আখড়া বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. লিয়াকত আলী জানান, ঈদের পর এখনো বাসায় গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। তাই মাছ বা মাংসের চেয়ে সবজি, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, টমেটো ও শসা কিনতেই বাজারে এসেছেন। তবে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার আশপাশে থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সবজি বিক্রেতা মো. আবু ইসমাইল বলেন, ঈদের পর অনেক পাইকার এখনো পুরোপুরি ব্যবসায় ফেরেননি। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। এর সঙ্গে বৃষ্টির প্রভাবও রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুম শেষ হয়ে আসায় শিম, বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো কিছু সবজির দাম বেশি। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা তার।

এদিকে মুরগির বাজারেও চাহিদা কম। বিক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির ঈদের পর সাধারণত অনেক পরিবারের ঘরেই গরুর মাংস থাকে, ফলে মুরগির বিক্রি কমে যায়। তারপরও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কিছু চাহিদা রয়েছে, যদিও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতা কম হলেও ব্রয়লার মুরগির দাম হঠাৎ কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ঈদের আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

মালিবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঈদের সময় মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহও কম থাকে। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম বেড়েছে। তবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ডিমের বাজারে এখনো তেমন গতি ফেরেনি। ডিম ব্যবসায়ী মো. তানভীর ইসলাম জানান, ক্রেতা কম থাকলেও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আকারভেদে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১১০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ঝিঙা, কচুরলতি ও শসা প্রতি কেজি প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল ও চিচিঙ্গার কেজি ৭০ টাকা। বরবটি, কচুরমুখী ও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। শিমের কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, বাঁধাকপির পিস ৬০ টাকা এবং টমেটো কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৮০ টাকা ও চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি ৫০ টাকা।

তবে সবজির বাজারে চাপ থাকলেও আলু ও পেঁয়াজের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা এবং আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও ঈদের পর স্বাভাবিক অবস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। শনির আখড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. নিয়াজ উদ্দিন জানান, অনেক মাছ ব্যবসায়ী এখনো গ্রাম থেকে ফেরেননি। ফলে বাজারে মাছের দোকানও কম খোলা রয়েছে। তবে মাছের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। চিংড়ি মাছ কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।