যমুনা সারকারখানা, দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত এই রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক সংকট।
১৯৯২ সালের ১ জুলাই, বিএনপি সরকারের সময় বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) ছিল দেশের ইউরিয়া সারের প্রধান উৎস। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা বন্ধ থাকায় চলতি ভরা আমন মৌসুমে সার সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, যমুনার উৎপাদিত দানাদার ইউরিয়ার গুণগত মান অনেক ভালো হওয়ায় এর চাহিদা সবসময়ই বেশি। অথচ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই কারখানা অচল রেখে বিদেশ থেকে নিম্নমানের ইউরিয়া সার আমদানির পথ সুগম করছে।
২০২4 সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন আংশিকভাবে শুরু হলেও মাত্র চারদিন পর অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের ভাল্বে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই অচলাবস্থার সুযোগে নিয়মিত ও অনিয়মিত ওভারহোলিংয়ের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র।
সম্প্রতি, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান কারখানা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় শ্রমিক, ডিলার ও ব্যবসায়ীরা গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার যমুনা সারকারখানা পুনরায় চালু না করে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া কারখানার দিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের আড়ালে সিন্ডিকেটের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যমুনা সারকারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, যা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা সহ মোট ২১ জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির পুনরায় চালু না হলে কৃষি ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



