আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে ফিটলিস্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ইতোমধ্যে সিলেট জেলায় আলোচিত প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিটলিস্ট প্রস্তুতি
- চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু হয়।
- ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, এর মধ্যে অর্ধশতাধিককে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে।
- বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
- বর্তমানে ২৪তম, ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিতর্ক এড়াতে সতর্কতা
২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ৬১ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হলে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে মন্ত্রণালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে এবার সরকার জানিয়েছে—
- কোনো রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বা বিতর্কিত কর্মকর্তাকে ডিসি করা হবে না।
- তথ্য গোপন করে কেউ নিয়োগ পেলে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনে অস্থিরতা
বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয় সচিববিহীন এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে চলছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকেও অনেকেই প্রশাসনের দুর্বলতার কারণ হিসেবে দেখছেন।
জনপ্রশাসনের বক্তব্য
- অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক: “ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন, দ্রুতই চূড়ান্ত হবে।”
- সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমান: “নির্বাচন সামনে রেখে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদেরই ডিসি করা হবে।”
বিশেষজ্ঞ মতামত
সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, “সৎ, দক্ষ ও পেশাজীবী আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। এখনো সময় আছে—গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য লোক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে।”
নিয়োগ কমিটি
ডিসি ও অন্যান্য পদে নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’। এ কমিটিতে আছেন চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিব।



