দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক স্থানে কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় ঢাকা-১৩ আসনের একটি কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ভোট শুরুর আগেই ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
কেন্দ্রে আসা এক ভোটার বলেন, “২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলাম। এরপর আজ আবার ভোট দিতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।”
আরেক ভোটার জানান, “সকাল সকাল চলে এসেছি। পরে ভিড় বাড়লে ঝামেলা হতে পারে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতনের পর আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, যারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে। জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে। জাতীয় পার্টি ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
দেশজুড়ে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বুথ বা ভোটকক্ষ রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারী বুথ ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গাজীপুর-২ আসনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এবার ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। একটিতে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের প্রতীক এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য রয়েছেন।
এছাড়া ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট ও ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় এবং দুটি সিটি করপোরেশনে নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক হাকিমরা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবেন।



