চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ। এই সংকট অব্যাহত থাকলে বিশ্ব সংস্থাটি কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ এবং প্রচলিত আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার না হলে জাতিসংঘ অচিরেই কার্যক্ষমতা হারাবে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, তহবিলের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবিলম্বে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সংস্থার সামনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো বাস্তব বিকল্প থাকবে না। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা তারল্য বর্তমানে জাতিসংঘের হাতে নেই।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।
যদিও সংকটের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের ইঙ্গিত এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রভাবশালী দেশগুলোর এই অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন প্রায় ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। গুতেরেস তার চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি একটি পুরোনো আর্থিক নিয়মের সমালোচনা করেন। প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রচলিত নিয়ম বর্তমানে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, যখন পর্যাপ্ত অর্থই নেই, তখন অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা জাতিসংঘকে এক অদ্ভুত ও ক্ষতিকর চক্রে আটকে ফেলছে।
বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের জন্য তাদের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। এই পরিস্থিতি জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
prothomnews24.com/moha



