অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলানও উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বৈঠকটি শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্রুতগতিতে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের পর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে নির্বাচন বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান এবং ক্ষমতায় গেলে গণতান্ত্রিক ধারা কীভাবে বজায় রাখা হবে—সে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের চীন-সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান, যা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
চীনা দূতাবাসের দাবি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এসব মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের বক্তব্য সঠিক ও ভুলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।



