ক্ষমতায় এলে দেশের প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “এই দুনিয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। বেহেশত ও দোজখের মালিকও তিনি। অথচ একটি দল ভোটের লোভ দেখাতে বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে। নির্বাচনের আগেই তারা জনগণকে প্রতারণা করছে এবং মুসলমানদের শিরকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আজ লাখ লাখ মানুষ এই মাঠে সমবেত হয়েছেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন। গত ১৫ বছরে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন, আমরা হারিয়েছি জুনাইদ ও দিনারকে। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী হত্যা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনে উন্নয়নের নামে দেশজুড়ে লুটপাট হয়েছে।”
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “২০০৫ সালে বন্যার সময় সুনামগঞ্জে আসতে আমার মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। অথচ এখন আসতে লাগে দশ ঘণ্টা। লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না। তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে তারা শুধু ভোটের অধিকারই কেড়ে নেয়নি, উন্নয়নের নামে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে।”
তারেক রহমান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয়ী হলে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি দেশের এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের পাশে দাঁড়াবে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। যারা বেকার, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে কাজে লাগানো হবে।”
জনসভায় তিনি স্লোগান দেন— ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এবং সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছিল। আমরা আবার তা শুরু করতে চাই। এতে কৃষক উপকৃত হবেন এবং উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলেও দেশ বন্যায় ভেসে যাবে না।”
সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় বলি— দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশ।”



