tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভিক্ষুকের তিনটি বাড়ি, চারটি গাড়ি ও সরকারি ফ্ল্যাট

ভিক্ষুকের তিনটি বাড়ি, চারটি গাড়ি ও সরকারি ফ্ল্যাট

ভারতের ইন্দোরে ভিক্ষুকমুক্ত নগর গড়ার অভিযানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শহরের ব্যস্ত সারাফা বাজারে নীরবে ভিক্ষা করা এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যে আসলে কোটিপতি, তা জানাজানি হতেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ব্যক্তির নাম মঙ্গলীলাল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের একটি উদ্ধারকারী দল তাঁকে আটক করে। নিয়মিত ভিক্ষাবৃত্তি করা এবং নিজেকে কুষ্ঠরোগী হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর তথ্য।

কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলীলালের মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। পাশাপাশি তাঁর রয়েছে তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি একটি এক কক্ষের সরকারি ফ্ল্যাটও বরাদ্দ পেয়েছেন, যদিও ফ্ল্যাট পাওয়ার আগেই তাঁর একাধিক সম্পত্তি ছিল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলীলাল সরাসরি কারও কাছে ভিক্ষা চাইতেন না। মানুষের সহানুভূতির ওপর নির্ভর করে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি আয় করতেন। তবে তদন্তে উঠে আসে, এই অর্থ তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি সুদে ধার দিয়ে বিনিয়োগ করতেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি মোট চার থেকে পাঁচ লাখ রুপি ঋণ দিয়েছেন এবং সুদ বাবদ প্রতিদিন এক হাজার থেকে দুই হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করতেন।

নারী ও শিশু উন্নয়ন কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গলীলাল সুদে টাকা ধার দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় সুদের টাকা সংগ্রহ করতেন। বর্তমানে তাঁকে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি এবং যাঁরা তাঁর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকমুক্ত নগর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ অভিযানের আওতায় ইতিমধ্যে হাজারো মানুষকে পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে আসতে সহায়তা করা হয়েছে।