tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা দেশের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্তে এই তালিকা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩১ টাকা হিসাবে) এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (ভ্রমণ) ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এই নিয়ম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ডের আওতায় আসা দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বটসওয়ানা, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, আইভরি কোস্ট, কিউবা, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যার পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। বন্ডের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারিত হবে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময়। এজন্য আবেদনকারীকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ‘DHS Form I-352’ পূরণ করতে হবে।

এই অর্থ শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট Pay.gov-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। কনসুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া আগে থেকে অর্থ জমা দিলে তা ফেরত পাওয়া যাবে না। এছাড়া ভিসা বন্ড প্রদান করলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না।

নিয়ম অনুযায়ী, ভিসাধারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে বা প্রস্থান সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে।

ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে যদি—ভিসাধারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ না করেন, অথবা প্রবেশের চেষ্টা করলেও ভিসা অনুমোদিত না হয়। তবে অনুমোদিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা, ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা বা আশ্রয়ের আবেদন করলে ভিসা বন্ড লঙ্ঘিত হবে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বি-১ ও বি-২ ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের হার কমানো, যাতে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য করা যায়।