একযোগে ‘ভোটযুদ্ধে’ নামতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নানা অত্যাচার–নির্যাতন, ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের সব বাধা নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করেছেন। তাই সামনের নির্বাচনী লড়াইও তারা সফলভাবে সামাল দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, দলের দেশগড়ার পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে জনগণের সমর্থন অত্যন্ত জরুরি। আর সেই সমর্থন অর্জনে নেতাকর্মীদেরই সামনে থেকে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, “আপনারা নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছান। তাদের জানান—আমরা কী করতে চাই, তাদের জন্য কী পরিকল্পনা নিয়েছি। জনগণ আমাদের সুযোগ দেবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন পক্ষ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাই মাঠে উপস্থিত থেকে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু ধানের শীষের প্রতীক, দল ও আদর্শ অটুট থাকবে। আপনারা ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবেন।”
এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খুব শিগগিরই দলীয় নেতা দেশে ফিরবেন। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান তিনি।
ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জনই এখন প্রধান লক্ষ্য। নানা বাধা ও প্রচারণা সত্ত্বেও বিএনপি কখনো পরাজিত হয়নি এবং সামনে–পেছনে তাকিয়ে না থেকে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি একাত্তরকে বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের প্রজন্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কর্মশালায় ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় বিএনপি নেতারা বক্তব্য দেন।



