কর্তব্যরত টিকিট পরীক্ষক সুমনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
অবরোধের কারণে সারাদিন রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকা, খুলনা ও চিলাহাটি রুটের কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ সব ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও আব্দুলপুর স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে। দীর্ঘসময় স্টেশনে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে। অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন।
এছাড়া বৈঠকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট আবারও বৈঠক হবে বলে জানানো হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপরপরই রাজশাহী থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।



