দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চলা ফৌজদারি মামলায় অবশেষে সব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার জ্যাকব মার্টিন। পাটিয়ালা হাউস কোর্টের রায়ে শেষ হয়েছে তার জীবনের দুই দশকেরও বেশি সময়ের আইনি অনিশ্চয়তা। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার জানিয়েছেন, দীর্ঘ এই মামলার কারণে তাকে মানসিক চাপের পাশাপাশি পেশাগত ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০০৪ সালে দায়ের করা ওই মামলায় মার্টিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার, ষড়যন্ত্র এবং পাসপোর্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাজ্যের জাল ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প, ভ্রমণের ব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে মামলাটির সূত্রপাত।
তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কথিত আর্থিক লেনদেন কিংবা আজওয়া স্পোর্টস ক্লাবের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ মার্টিনের হাতে থাকার বিষয়েও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলার কয়েকজন সাক্ষীও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমর্থন করতে পারেননি। ফলে সব অভিযোগ থেকে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর নিজের দীর্ঘ আইনি দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন মার্টিন। তার ভাষ্য, ২০০৪ সালে তার দলের এক ক্রিকেটার ইংল্যান্ডে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করেন। পরে জাল ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভারতে ফেরার চেষ্টা করলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।
মার্টিন দাবি করেন, ওই ঘটনার মূল এফআইআরে তার নাম ছিল না। তবে তদন্তের সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তার পরিচিতির কারণে তাকে মামলায় জড়ানো হয়।
তিনি বলেন, ২০০৪ সালে তাদের একটি দল ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েছিল। সবাই দেশে ফিরলেও একজন খেলোয়াড় সেখানে থেকে যান। পরে জাল স্ট্যাম্প নিয়ে ফেরার সময় তাকে আটক করা হয়। মূল এফআইআরে নিজের নাম না থাকলেও তদন্তের সময় তাকে মামলায় জড়ানো হয় বলে দাবি করেন মার্টিন।
দীর্ঘ এই মামলার প্রভাব তার ব্যক্তিজীবনেও পড়ে। বছরের পর বছর মানসিক চাপের মধ্যে থাকার পাশাপাশি চাকরিও হারাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকেও দীর্ঘ সময় কোনো উত্তর পাননি বলে দাবি করেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
মার্টিন বলেন, ২২ বছর ধরে তিনি কোনো উত্তর পাননি। এ সময় তার রেলের চাকরিও চলে যায়। পুরো সময়টিকে অত্যন্ত চাপের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে সম্পূর্ণ খালাস পাওয়ায় এখন তার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে।
আদালতের রায়কে জীবনের বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন মার্টিন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এবার নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান তিনি।
ডানহাতি ব্যাটার জ্যাকব মার্টিন ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। এসব ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৫৮ রান, ব্যাটিং গড় ২২.৫৭। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ না হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে ২০০৪ সালের মামলাটি তার জীবনে তৈরি করেছিল দীর্ঘ আইনি অনিশ্চয়তা। ২২ বছর পর আদালতের রায়ে অবশেষে সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটল।



