চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের কাজ আগের সরকারের আমলে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার টার্মিনালটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
থার্ড টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্প হলেও বিমানবন্দরের বর্তমান টার্মিনালের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় নতুন টার্মিনালের প্রয়োজন রয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন জায়গায় দুরবস্থা দেখতে পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো ফান্ড বা টাকা ছিল না। তৎকালীন সরকার আমাদের ওই অবস্থায় রেখে গেছে। আমি চেষ্টা করছি সেই দুরবস্থার ইতি ঘটাতে।’
আগের সরকার বিমান খাতের উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তার অভিযোগ, মন্ত্রণালয়কে ব্যক্তিস্বার্থে ভর্তুকির খাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এ সময় দেশের এভিয়েশন খাতে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে এমআরও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বোয়িং, এয়ারবাস ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বোয়িং-এয়ারবাসের সঙ্গে এমআরও নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা লালমনিরহাটে এটি করার চেষ্টা করছি। আশা করি খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’
লালমনিরহাটে এমআরও শিল্প গড়ে উঠলে দেশে দক্ষ এভিয়েশন জনবল তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ ছাড়া দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান বিমানমন্ত্রী। বিমানবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্লাইট একাডেমি করার চেষ্টা করছি, যাতে পাইলট হতে কোটি টাকা খরচ না হয়। গরিব মেধাবীরা ভর্তি হলে আমরাই তাদের পড়াব।’
এই উদ্যোগের আওতায় পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাইলটসহ এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা চাকরিতে যোগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের ব্যয় পরিশোধ করবেন। এতে দেশে পাইলট সংকট কমার পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি।
এভিয়েশন খাতের সমস্যা ও দুর্বলতার পাশাপাশি সম্ভাবনা ও ইতিবাচক দিকগুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন। সেই সঙ্গে বিমানের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরবেন।’
সাংবাদিকদের পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম।
দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সাংবাদিকতার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



