ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১৫ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশন মুলতবির ঘোষণা দেন।
এর আগে সকালে স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী কার্যক্রমে মোট ৯১টি বিল পাস হয়।
অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের বৈঠকে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সেগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উত্থাপিত ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ ও ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উত্থাপন করেন ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্থাপন করেন ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্থাপন করেন ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের অর্থ বিল, ২০২৬’।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উত্থাপন করেন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপন করেন ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উত্থাপন করেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উত্থাপন করেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’। এসব বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে সেটিও পাস হয়।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে বিরোধী দলের সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। পরে ভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেলে বিলটি পাস হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এতে সংশোধনী প্রস্তাব দেন। পরে স্পিকার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করে বিলটি সংশোধিত আকারে পাস করেন।
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।



