লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে এবং বড় বড় বিনিয়োগও দেশ ছাড়ার পথে রয়েছে।
রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, “পত্রিকার পাতা খুললেই খুনোখুনির খবর দেখা যায়। মানুষের মনে শান্তি নেই। এই পরিস্থিতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।”
সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, “হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, গত কয়েক দিনে শতাধিক দোকান ও মসজিদে হামলা ও লুটপাট হয়েছে। ভারত সরকারের উচিত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।”
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তার বিচার দাবি করেন এলডিপি চেয়ারম্যান।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আইন মানুষের কল্যাণের জন্য। জনগণের বৃহৎ অংশ যা চায়, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কর্নেল অলি বলেন, “চাটুকারদের বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখান। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে জনগণের সমর্থন, নীতি ও নৈতিকতার প্রয়োজন হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বেড়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ অন্যরা।



