মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
নশ্বর এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে মানুষকে উপার্জন করতে হয়। চাকরি, ব্যবসা, কৃষি কিংবা নানা পেশার মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। ইসলাম মানুষকে উপার্জনে উৎসাহিত করেছে, তবে শর্ত একটাই—উপার্জন হতে হবে হালাল ও বৈধ পথে। হালাল উপায়ে উপার্জিত সম্পদে যেমন বরকত থাকে, তেমনি আল্লাহও তাতে সন্তুষ্ট হন। পক্ষান্তরে হারাম উপার্জন কিংবা বৈধ জিনিস অবৈধ পথে অর্জন করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না।
অনেকেই নামাজ, রোজা, হজ ও নানা ইবাদতে নিয়মিত থাকেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—তবুও জীবনে শান্তি ও বরকত আসে না। এর একটি বড় কারণ হতে পারে উপার্জনের উৎস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মানবজাতি! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং শয়তানের অনুসরণ করো না।” (সুরা বাকারা: ১৬৮)। এখানে পবিত্র খাদ্য বলতে হালাল উপার্জনের খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সুরা বাকারা: ১৭২)। অন্য আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দেন, “নামাজ শেষ হলে তোমরা জীবিকার সন্ধানে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর।” (সুরা জুমআ: ১০)। অর্থাৎ ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপার্জনের গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না এবং হারাম সম্পদের সদকাও কবুল হয় না।” (সহিহ মুসলিম)। হারাম সম্পদ দিয়ে দান-সদকা বা ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
হাদিসে আরও এসেছে, যে দেহ হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম উপার্জন মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। রাসুল (সা.) বলেন, “কেউ হারাম সম্পদ উপার্জন করে সদকা করলে তা কবুল হয় না, ব্যয় করলে তাতে বরকত থাকে না, আর রেখে গেলে তা জাহান্নামের পাথেয় হয়।” (মুসনাদে আহমদ)।
হারাম খাদ্য মানুষের শরীরের রক্ত-মাংসে মিশে যায় এবং তার দোয়া কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফর শেষে ক্লান্ত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে দোয়া করে, কিন্তু তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক সবই হারাম হওয়ায় তার দোয়া কবুল হয় না। (মিশকাত)
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত উপার্জনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা, হালালকে বেছে নেওয়া এবং হারাম থেকে দূরে থাকা। কারণ হালাল উপার্জনেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি, বরকত ও আখিরাতের সফলতা। সূত্র: কালবেলা।
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক



