tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসারাদেশস্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে ড্রামে রাখতে গিয়ে স্ত্রী আটক

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে ড্রামে রাখতে গিয়ে স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ড্রামে সংরক্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন আসমা। পরে সেগুলো একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন কয়েকদিন। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশাযোগে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, দেহাংশের কিছু অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার একটি বাসায় নিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও চারটি হাত-পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো নিহত জিয়া সরদারের শরীরের অংশ।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, “আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফিরে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা এসে জানতে পারি, তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান।

তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি ঘটনা এত দূর গড়াবে।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে ড্রামে রাখা হয়েছিল। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।