মিরপুর টেস্টের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে তামিম-মুমিনুলের দ্রুত বিদায়ের পর দলের হাল ধরেছেন সাদমান ইসলাম। এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে চলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় সেশন শেষে ১৬৭ বলে ৭৯ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।
লাঞ্চ বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ সামাল দেন সাদমান। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। হৃদয় অপরাজিত রয়েছেন ৩৬ রানে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের শুরুতেই জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৭ রান করে বিদায় নেওয়া এই ওপেনারের আউটে ৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাদমান। এই জুটিতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুমিনুল। তবে জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে ২৮ রান করে ফিরলে ভাঙে দুজনের ৫৯ রানের জুটি। এরপর সাদমান ও শান্ত মিলে প্রথম সেশনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি।
দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। রস্টন চেইজের রিভিউ সফল হলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ১৯ রান করে ফিরতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে। তখন ১১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। সেই পরিস্থিতিতে দলের ইনিংসের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন সাদমান।
সতর্ক ব্যাটিংয়ে ক্রিজে থিতু হয়ে ৯৫ বলে ফিফটির দেখা পান এই ওপেনার। টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক পূর্ণ করে এবার শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রানের গতি খুব বেশি না হলেও উইকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিচ্ছেন সাদমান।
টেস্ট ক্রিকেটে সাদমানের সর্বশেষ সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে, চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ১২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। টেস্টে তাঁর অন্য সেঞ্চুরিটিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬৭ রান যোগ করেছেন সাদমান। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই দৃঢ় হচ্ছে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিরোধকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে পারেন কি না সাদমান।



