ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএমআরসি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, বন্ধ স্টেশনগুলো হলো—লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম।
তবে রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যাত্রীরা এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া কিংবা বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমআরসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্টেশনগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দলটি আন্দোলন করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছে তারা।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সেখানে সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের জন্য পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন দাতা খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করেছেন বলেও জানা গেছে।
এর মধ্যে বুধবার রাতে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তলস্তয় মার্গের কাছে একদল দুর্বৃত্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছোড়ে। এতে কনট প্লেসের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত আহত হন। পরে তাকে রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা মেদান্তা হাসপাতালে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে হাসপাতালের প্রবেশপথেই তাদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সংসদ সদস্য মহুয়া মাজি বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই বিক্ষোভ ২২ দিন ধরে চলছিল। তখন দিল্লি সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তার দাবি, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, তার সঙ্গে দেখা করতে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য সঞ্জয় যাদবও সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এত বড় জনরোষের পরও সরকার যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলে, তাহলে তা সরকারের ঔদ্ধত্যের প্রকাশ। তার দাবি, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আন্দোলন নয়; সরকারের নীতি ও পুলিশের কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ তরুণরাই এতে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ দিনের অনশন শেষ করার আগে সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চান। সেই নিশ্চয়তায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।



