tanaka

মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় বিমানটি...
প্রচ্ছদজাতীয়সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অর্ধেকে নামানোর নির্দেশনা

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অর্ধেকে নামানোর নির্দেশনা

দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি বাবদ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ খাতে বর্তমানে মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা পাবেন।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ (শাখা-১) থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উপ-সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। সেই বিবেচনায় সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে ‘গাড়ি সেবা নগদায়ন’ সুবিধার আওতায় মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কর্মকর্তাদের ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার আলোকে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মাসে ২৫ হাজার টাকায় একটি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাস্তবসম্মত নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে সুদমুক্ত গাড়ি ঋণের অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ কিংবা গাড়ি ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত আয় করার অভিযোগ রয়েছে। তাই এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখাও জরুরি।

অন্যদিকে, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি ব্যয় সংকোচনের এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এডিপি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয়, মেগা প্রকল্পে অপচয় এবং কর ফাঁকির মতো বড় সমস্যাগুলোর সমাধানেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কৃচ্ছ্রসাধন নীতিমালা অনুসরণ করছে সরকার। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দিয়ে একটি জরুরি পরিপত্র জারি করেছে। এতে নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশ সফর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সীমিত বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।