tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়লোডশেডিংয়ের প্রভাব চালের বাজারে, কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা

লোডশেডিংয়ের প্রভাব চালের বাজারে, কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা

দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে অটো রাইস মিলগুলোর উৎপাদন। মিল সচল রাখতে বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করায় বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। সেই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে, শেষ পর্যন্ত যার চাপ নিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চাহিদার তুলনায় খাদ্যশস্যের মজুত পর্যাপ্ত। সরকারি গুদামগুলোতেই ২৩ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। ফলে দেশে চালের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার নানা কারণে দাম বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চালকল মালিকরা বলছেন, আধুনিক অটো রাইস মিল ও হাসকিং মিলগুলো বিদ্যুৎনির্ভর। ধান সিদ্ধ, শুকানো, ছাঁটাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পুরো কার্যক্রম চালাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং বয়লারে থাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

একাধিক চালকল মালিক জানান, দিনে-রাতে কয়েক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। উৎপাদন চালু রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদ্যুৎ না থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

তাদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মিল পর্যায় থেকেই চালের দাম বাড়াতে হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জাত ও মানভেদে চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল প্রায় ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা, কাটারি নাজির ৮৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ড ও মানভেদে মিনিকেটের দামে অবশ্য পার্থক্য রয়েছে।

মালিবাগ বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী মমিন বলেন, পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির একটি বস্তায় ২০০ টাকা বাড়তি দাম হলে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে কয়েক টাকা বাড়ানো ছাড়া তাদের উপায় থাকে না। তার দাবি, বড় ডিলার ও মিলারদের পর্যায়ে দাম বাড়লেও এর দায় শেষ পর্যন্ত খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর এসে পড়ে।

ভোক্তা অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, দেশে চালের প্রকৃত ঘাটতি না থাকলেও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, অসাধু করপোরেট গ্রুপগুলোর নিয়মিত অডিট ও যথাযথ তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে চালকলগুলোর উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে চালের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে কারসাজি ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান, মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।