লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির সেনাবাহিনীকে লেবাননের অভ্যন্তরে আরও গভীর এলাকায় স্থল অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি সেনাবাহিনীকে লেবাননে চলমান স্থল অভিযান আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি।” আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সীমান্তজুড়ে সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লেবাননে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে তাদের ২৪ সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর হামলার মুখে উত্তর ইসরায়েলের হাজার হাজার বাসিন্দাও নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সর্বশেষ অভিযানে তারা দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর প্রভাবাধীন এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি আরও গভীর ও বিস্তৃত করাই তাদের লক্ষ্য।
যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেনারা এখন আরও উত্তরে জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা লিতানি নদী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
এদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ৪০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলার ফলে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।



