৪১ বছরে পা দেওয়ার পরও থামার কোনো লক্ষণ নেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ২০০২ সালের অক্টোবরে ১৭ বছর বয়সে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় পরও একই ছন্দে এগিয়ে চলেছেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। আল ফাতেহর মাঠে তার গোলেই শুরুতে এগিয়ে যায় আল নাসর পরে সৌদি প্রো লীগের ম্যাচে শেষ দিকে আরও একটি গোল যোগ করেন আয়মান ইয়াহিয়া। ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন রোনালদো।
টানা দুই ম্যাচে না খেলার পর রোনালদোর মাঠে ফেরার গুঞ্জন আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল। ম্যাচের আগে গা গরমের সময় অধিনায়ককে মাঠে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। আর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই সমর্থকদের হতাশ করেননি তিনি। অষ্টাদশ মিনিটে আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনসজয়ী সাদিও মানের ক্রস থেকে আলতো ছোঁয়ায় জাল খুঁজে নেন রোনালদো। চলতি লীগে ১৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮। তার চেয়ে দুই গোল বেশি নিয়ে শীর্ষে আছেন আইভন টোনি, যিনি খেলছেন আল আহলির হয়ে।
৭৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়মান ইয়াহিয়া। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লেখেন, “আরেকটি ধাপ, চলো এগিয়ে যেতে থাকি।”
তবে আলোচিত ‘ধর্মঘট’ ইস্যুতে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি তিনি। লীগে আল নাসরের আগের দুই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)–এর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্টির জেরেই ওই দুই ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন রোনালদো। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল-হিলালে বিনিয়োগ বাড়ানো হলেও আল নাসরে কাঙ্ক্ষিত সমর্থন না পাওয়ায় তিনি বিরক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এমনও শোনা যায়, কিছু দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামবেন না তিনি।
পরবর্তীতে সৌদি লীগ কর্তৃপক্ষ রোনালদোর অবদান স্বীকার করলেও সতর্কবার্তা দেয়। পরে খবর আসে, পিআইএফ তার বেশ কিছু দাবি মেনে নিয়েছে এবং ক্লাব পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই আবার মাঠে নেমে নিজের কাজটা করলেন রোনালদো—গোল করে দলকে জিতিয়ে।



