রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজকে রাজধানীর ভাটারা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার পৃথক আদালত এসব আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে নূর মোহাম্মদ
তিন দিনের রিমান্ড শেষে নূর মোহাম্মদকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সরকার তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
গত ২৮ জুন আদালতের আদেশে নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে ২৭ জুন রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অনুমতি ছাড়াই মিছিল বের করেন। এ সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।
নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো জেবুন্নেসাকে
বরিশাল-৫ আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজকে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার তাকে কারাগার থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিফাত আল আফসানী তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ভাটারা থানাধীন যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর রবিউল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ মে রাজধানী থেকে জেবুন্নেসা আফরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।



