ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের বৈঠক সম্পর্কে রাহুল এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রাহুল সত্যকে বিকৃত করেছেন। তার ভাষ্য, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যকে রাহুল নিজের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছেন। এবার রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানকেও একইভাবে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ‘রাহুল গান্ধী নিজের মনগড়া রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার উদ্দেশ্যে সত্যকে বিকৃত করেছেন। এর আগেও তিনি সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নিজের সুবিধামতো ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এবার তিনি দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতিকেও নিজের রাজনীতির হাতিয়ার বানাতে সক্রিয় হয়েছেন।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে কী হয়েছিল
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের’ অভিযোগ তুলে তাকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নেয় তারা। শুক্রবার রাত ৮টায় বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
বৈঠকে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেসের এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, এনসিপি (শরদ পওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, দলিত সংগঠন ভিসিকের নেতা থোল তিরুমালব্যন এবং সমাজবাদী পার্টির রাজীব রায়।
সাক্ষাৎ শেষে রাহুল ও মমতাসহ বিরোধী নেতারা দাবি করেন, ভোটচুরির অভিযোগ রাষ্ট্রপতি সরাসরি নাকচ করেননি। বরং তিনি তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং অভিযোগের সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
তার দাবি, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্যের বিরোধিতা করেননি। রাহুলের ভাষ্য, ‘আমরা যা বলেছি, সব শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। আমাদের বক্তব্যে পাল্টা কোনো যুক্তি দেননি। ভোটচুরির প্রমাণ আমাদের জমা করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখানে একই বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা বিজেপির
বিরোধী নেতাদের বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে যায় বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি বিরোধী জোটের দাবিকে সমর্থন করেছেন—এমন কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের কথা রাহুল যেভাবে তুলে ধরছেন, তা ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, ‘রাহুল মিথ্যাচার করছেন। সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে তার নেতৃত্বে বিরোধীরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন এবং ভিত্তিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন! রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের দাবি মেনে নিয়েছেন, এমন উদ্ভট দাবিও তোলা হচ্ছে!’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী জোটের বৈঠক ঘিরে রাহুলের বক্তব্য এবং বিজেপির পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।



