শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় তিনি এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষীরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত সদস্যরাও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন এবং অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান
এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল, তবে এখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।
তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী মানুষের অবদানকে যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ ও শিল্পখাতের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত যাত্রা।
তিনি এমন শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেন, যা শুধু সনদ প্রদান নয়, দক্ষ মানবসম্পদ ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এতে জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে তারাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় বর্তমানে দুই হাজারের বেশি কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে উল্লেখ করে তিনি উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যুগোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।



