tanaka

শুটিংয়ে পিছলে পড়ে হাঁটুতে চোট, বসেই ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ উপস্থাপনা অমিতাভের

শুটিংয়ের সময় পিছলে পড়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। চোট গুরুতর না হলেও হাঁটুর সমস্যার কারণে দাঁড়াতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণার পরই গাজায় ইসরায়েলের নতুন হামলা

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণার পরই গাজায় ইসরায়েলের নতুন হামলা

যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর রাখার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সর্বশেষ এ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতের হামলায় প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এমন পরিস্থিতিতে শান্তি প্রচেষ্টা যেন ভেস্তে না যায়— সে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

আল জাজিরা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন। স্থানীয় আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়, হামলার সময় ওই এলাকায় বেসামরিক লোকজন অবস্থান করছিলেন। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা এমন একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে অস্ত্র মজুত ছিল এবং সেটি তাদের সেনাদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” তৈরি করেছিল।

এই হামলা গাজার নাজুক অস্ত্রবিরতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘প্রতিশোধমূলক জোরালো হামলার’ নির্দেশ দেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই হামলায় ১০৪ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হামাসের সিনিয়র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে এবং ‘ডজনখানেক’ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এরপর বুধবার দুপুরে তারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার ঘোষণা দিলেও, একইদিন সন্ধ্যায় আবারও হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সর্বশেষ হামলা সত্ত্বেও অস্ত্রবিরতি “ঝুঁকির মুখে নেই।” অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এই হামলায় হতাশা প্রকাশ করলেও জানিয়েছে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

এমন অবস্থায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, গুতেরেস গাজার বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এই হামলায় বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, এত বিপুল সংখ্যক হতাহতের খবর “ভয়াবহ।” শান্তির সুযোগ যেন “হাতছাড়া না হয়”— সে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও।

অন্যদিকে হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, রাফাহে যে ঘটনায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে, সেটির সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের “কোনও সম্পর্ক নেই।” সংগঠনটি অস্ত্রবিরতি মানার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে সর্বশেষ হামলার কারণে এক মৃত ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

হামাসের দাবি, ইসরায়েলের নতুন হামলা চলতে থাকলে সেটি “বন্দিদের মরদেহ উদ্ধারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”

এদিকে ইসরায়েল রেডক্রসের প্রতিনিধিদের ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাদের দাবি, এমন সাক্ষাৎ “নিরাপত্তা ঝুঁকি” তৈরি করতে পারে।

হামাস এ নিষেধাজ্ঞাকে বন্দিদের অধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, যুদ্ধ চলাকালে কার্যত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎই ছিল, যা “ইসরায়েলের ধারাবাহিক হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও অনাহারে রাখার নীতিরই অংশ।”