যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না, তাদের এদেশে ভোট চাওয়া বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু।
৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল— “সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের করণীয়।”
বুলু বলেন, “যারা ’৭১-এ পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, তারা আজও বাংলাদেশকে অস্থির করতে চায়। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগ অস্বীকার করে, তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না।”
জামায়াত-শিবিরকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “১৭ বছর তারা একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে সব সুবিধা ভোগ করেছে, কিন্তু আজ হঠাৎ করে তারা বিপ্লবী হয়ে উঠেছে। অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার মুখে পড়লেও তারা নির্বিঘ্নে হলে ছিল।”
ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০-৮৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে, ছাত্রদল পেয়েছে প্রায় ৫৮০০ ভোট। এটা ছাত্রদলের জন্য একটি বড় সাফল্য। তবে ভোট নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়—অনিয়ম, ব্যালট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।”
বুলু আরও জানান, “বিএনপি ও সমমনা ৪২টি দলের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ দফা রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের জন্য একটি সময়োপযোগী প্রস্তাব।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে না। গণআন্দোলনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের অনেকেই এখন হাজার কোটি টাকার মালিক—এটাই প্রমাণ করে কতটা লুটপাট হয়েছে।”
আলোচনা সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে—এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট। তবে জনগণের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হারুণ চৌধুরী বলেন, “সরকার যদি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে কিছু করতে চায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জোর দেন।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা হারুণ চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. নূরে আলম।



