tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মামা ওবায়দুরের প্ররোচনায় নজরুলকে বিয়ে, পরে আত্মহত্যার অভিযোগ মরিয়মের বাবার

মামা ওবায়দুরের প্ররোচনায় নজরুলকে বিয়ে, পরে আত্মহত্যার অভিযোগ মরিয়মের বাবার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তার দাবি, এই নির্যাতন ও আসামিদের প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এরপর মরিয়মের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা এবং মরিয়ম শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।

মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, তার মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনাতেই নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, ফ্ল্যাটে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন।

পরে পুলিশের সহায়তায় ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা। বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দল থেকে বহিষ্কার

এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

এরপর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে দলটি গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

আগের মামলায় বাদী ছিলেন ওবায়দুর

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান।

তবে এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে।