tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

আজ মহান বিজয় দিবস। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল বাঙালি জাতি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দ্বিতীয়বারের মতো মুক্ত পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। নতুন বাংলাদেশের শুভ সূচনার প্রত্যাশা নিয়েই এবার উদ্‌যাপিত হচ্ছে বিজয়ের বার্ষিকী।

বিজয়ের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্র-জনতা আবারও শপথ নেবে।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার যে স্বপ্ন ছিল, তা নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই এবার বিজয় দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

দিবসটির সূচনা হবে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন এবং পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিদেশি কূটনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত।

দিবসটি উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সর্বাধিক সংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট এবং বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হবে। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে, যা হবে বিশ্বের বৃহত্তম পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী। দেশের অন্যান্য শহরেও অনুরূপ ফ্লাই-পাস্ট ও ব্যান্ড শোর আয়োজন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ বিকাল ৩টা থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে। একই সময়ে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বিকেলে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। একই সঙ্গে মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো সারাদিন বিনা মূল্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং শিশুদের জন্য সকল বিনোদন কেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দরসহ বিভিন্ন নৌঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।