tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় অনুপ্রবেশের ঢল, নিহত ৫৭

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় অনুপ্রবেশের ঢল, নিহত ৫৭

মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় জল ও স্থলপথে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে স্পেন সরকার।

আঞ্চলিক সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের একটি সংগঠনের প্রধান রশিদ সবিহি জানান, নিহতদের অনেকেই সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া সীমান্ত তল্লাশি চৌকির কাছে তারাযাল সৈকতের ব্যারিকেড অতিক্রমের সময় ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ মরক্কো উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে রশিদ সবিহি বলেন, অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেই আশ্রয় ও খাবারের অভাবে দিশেহারা হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সংকট মোকাবিলায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) জরুরি ভিত্তিতে সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, স্পেনের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসনপ্রার্থীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো কর্তৃপক্ষ সীমান্তে জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষের পর সীমান্ত এলাকায় পুড়ে যাওয়া বাস ও গাড়ির ধ্বংসাবশেষও দেখা গেছে।

সেউতা কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওই রায়ে বলা হয়, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসনপ্রার্থীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রগুলো এই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ও গুজব ছড়িয়ে তরুণ ও পরিবারগুলোকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসনপ্রার্থী এ ধরনের আইনি বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইন ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইন অমান্য করে কাউকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিপজ্জনক সীমান্ত পারাপার বন্ধ এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্স স্পেনের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দুই দেশের সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থার কিছু সুবিধা স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে সেউতার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা