মাদাগাস্কারের পর এবার আফ্রিকার আরেক দেশ মরক্কোতে টানা চতুর্থ দিনের মতো জেনারেশন জি তরুণদের বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার রাতেও এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
সারা দেশে শত শত যুবক রাস্তায় নেমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতি হ্রাসের দাবি জানায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে, পাথর নিক্ষেপ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন এএমডিএইচ অভিযোগ করেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং নির্বিচারে গ্রেফতার করেছে। ওউজদা শহরে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ম্যাপ জানিয়েছে।
বিক্ষোভটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘Gen Z 212’ নামের একটি যুব সংগঠন এ কর্মসূচির ডাক দেয়। সংগঠনটি কিছু সহিংস ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একজন বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল:
“অন্তত ফিফা স্টেডিয়ামে ফার্স্ট এইড কিট থাকবে! আমাদের হাসপাতালে তো সেটাও নেই।”
এই মন্তব্য ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনে স্টেডিয়াম নির্মাণে বিপুল ব্যয়ের সমালোচনার প্রতিফলন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্ষোভের ধরন সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য যুব আন্দোলনের সঙ্গে মিল রাখে। চলতি গ্রীষ্মে নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মাদাগাস্কারে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল। নেপালে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং মাদাগাস্কারে সরকারের বিলুপ্তি এই তরঙ্গের ফল।
মরক্কোতে এখন পর্যন্ত অনেক বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ জামিনে মুক্ত। এখনও ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে এএমডিএইচ জানিয়েছে।
সরকারি জোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং সমস্যা সমাধানে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নিতে চায়। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘আইনসঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ ভূমিকাকে প্রশংসা করেছে।
সূত্র: বিবিসি



