ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাবা-ছেলের অংশগ্রহণের ঘটনা আগেও দেখা গেছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো মা ও ছেলের বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি দেখা গেল। এই ইতিহাস গড়েছেন নিউজিল্যান্ডের তরুণ ডিফেন্ডার টাইলার বিন্দন এবং তার মা জেনি বিন্দন।
গত মঙ্গলবার ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন টাইলার। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লেখান তারা।
টাইলারের মা জেনি বিন্দন নিউজিল্যান্ড নারী দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি।
২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়া জেনি জাতীয় দলের জার্সিতে মোট ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন। অন্যদিকে ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া টাইলার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন ২০২৩ সালে। এবারের বিশ্বকাপই তার প্রথম বিশ্বকাপ আসর।
মায়ের বিশ্বকাপ খেলার প্রায় ১৫ বছর পর একই মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আবেগাপ্লুত টাইলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, “আজকের দিনটি অনেক কারণেই বিশেষ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য গর্বের। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে খেলা প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে মায়ের সঙ্গে এই অর্জন ভাগ করে নিতে পারা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি।”
শুধু মা-ছেলেই নয়, টাইলারের পরিবারে খেলাধুলার ঐতিহ্যও সমৃদ্ধ। তার বাবা গ্র্যান্ট বিন্দনও ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ। তিনি নিউজিল্যান্ডের ভলিবল জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে টাইলার ও জেনি বিন্দনের এই অনন্য অর্জন এখন ফুটবল ইতিহাসের এক গর্বিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।



