ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর উপ-চিফ অব স্টাফ জানিয়েছেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মাত্র সাত মাসে দেশটি তাদের আক্রমণাত্মক ড্রোন উৎপাদন ১০ গুণ বৃদ্ধি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ বলেন, ড্রোন সক্ষমতায় ইরান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি জানান, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সংঘর্ষ থেকে পাওয়া শিক্ষা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে হুমকি মোকাবিলা, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শত্রুর লক্ষ্য ভণ্ডুল করার সক্ষমতা আরও জোরদার হয়েছে।
এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা ইরানের “বিস্তৃত কৌশলগত সাফল্য”-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দেশটি নতুন এক ধারা তৈরি করেছে।
তিনি দাবি করেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে অগ্রগতির ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে এবং ইরানের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আরও কার্যকরভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।
“এটাই সামরিক সৃজনশীলতা—বিভিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে শক্তিশালী ও কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা,” যোগ করেন তিনি।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফার আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শক্তির ভারসাম্য থাকলেই পক্ষগুলো আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
তার দাবি, “আমরা শত্রুকে আমাদের শর্তে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছি—এটিই বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষের দাবি এবং আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর তুলনা করলেই শক্তির ভারসাম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। এই হামলায় পারমাণবিক স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর জবাবে ইরান “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪” এর আওতায় শতাধিক পাল্টা হামলা চালায়। এতে ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি অবস্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সূত্র: প্রেস টিভি



