জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল এবং ঘটনাটিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে ভারতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্রোহ চলাকালে বাংলাদেশে ৯২১ জন ভারতীয় নাগরিক প্রবেশ করেছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকের পরিচয় ও আগমন-প্রস্থানের হিসাব স্পষ্ট নয়। এ কারণে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করা।” তিনি জানান, তদন্তে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নামও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিডিআরের ভেতরে ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচি, শপ স্থাপন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংকট বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। প্ররোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের পর পাঁচ সেনা কর্মকর্তা নিখোঁজ হন এবং ছয় সেনা সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পিলখানার ৫ নম্বর গেটে র্যাব সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন কর্নেল রেজা নূর। সে সময় র্যাব সদস্যদের আলাদা নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়।
কমিশন জানায়, বিদ্রোহের ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সম্পৃক্ততার কিছু প্রাসঙ্গিক দিক পাওয়া গেছে, যা আরও যাচাই করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি প্রভাবের বিষয়টিও তদন্তের আওতাভুক্ত ছিল।
ফজলুর রহমান বলেন, “অপারেশন ‘ডাল-ভাত’ ছিল মূলত আড়াল। এর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল বিডিআরকে দুর্বল করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা।” তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহে সহযোগিতা করা অফিসারদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন সুপারসেডেড কর্মকর্তা, যারা পরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
কমিশন আরও জানায়, বিদ্রোহটি পরিকল্পিত ছিল। যদি সেনা অভিযান হতো, তাহলে সেনাবাহিনীকে শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সরিয়ে রাখা হতো না।
তদন্তে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনাও উঠে এসেছে। জবানবন্দিতে বলা হয়, কিছু কর্মকর্তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করা হয়। পাশাপাশি পরিবার-পরিজনদের ওপর হামলা ও বাসায় লুটপাটের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।



