tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদন‘বিগ বস ২০’-এ এসে নানা বিতর্কে মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে রীতি

‘বিগ বস ২০’-এ এসে নানা বিতর্কে মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে রীতি

ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা ও গায়ক মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে হিসেবেই এতদিন পরিচিত ছিলেন রীতি তিওয়ারী। তবে ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে প্রবেশের পর নিজের বক্তব্য, আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২৫ বছর বয়সী এই গায়িকা। বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সহপ্রতিযোগীর সঙ্গে বিবাদ কিংবা শৈশবের আর্থিক টানাপোড়েন— নানা প্রসঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

২০০১ সালের ২৩ জুন জন্ম রীতির। মুম্বাইয়ের জমনাবাই নরসি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। গান শেখার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই গিটার বাজাতেন। বর্তমানে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।

সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রীতি। একটি ক্রীড়াসামগ্রী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে তার। গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথা আগে জানিয়েছিলেন তিনি।

‘বিগ বস’-এর ঘরে রীতির ব্যক্তিগত জীবনের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, সেটি তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ। রীতির দাবি, বাবা-মায়ের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। সে সময় তাদের মধ্যে বিরোধ এতটাই বেড়েছিল যে বাবার ফোন এলেও তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা সম্ভব হতো না। এমনকি বছরে একবার বাবার সঙ্গে দেখা হতো বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রীতি আরও দাবি করেছেন, মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতখরচ পেতেন তিনি। ওই অর্থ দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটানো কঠিন ছিল বলে জানান তিনি। কখনো দিনে দুবার মাত্র ১০ টাকার বড়া পাও খেয়ে কাটিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। প্রয়োজনের সময় গাড়িতে মাত্র ৫০০ টাকার জ্বালানি ভরানোর কথাও বলেছেন তিনি।

ক্যারিয়ার গড়ার সময় বাবার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলেও জানিয়েছেন রীতি। তার ভাষ্য, মনোজ তিওয়ারী তাকে নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতার ওপর ভর করে ক্যারিয়ার তৈরি করতে বলেছিলেন। বাবার পরিচয় তাকে সামাজিক পরিচিতি দিলেও তার অর্থ কিংবা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেননি বলে দাবি করেছেন রীতি।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মূলত মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন রীতি। তার দাবি, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও মনোজ তিওয়ারী একসময় আশা করেছিলেন, হয়তো তাদের সম্পর্ক আবার ঠিক হতে পারে। এমনকি মেয়েকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি আইনি লড়াইও করেছিলেন বলে জানিয়েছেন রীতি। অন্যদিকে, একক অভিভাবক হিসেবে মাকে সংগ্রাম করতে দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রীতির এসব বক্তব্যের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন পাঞ্জাবি গায়ক একম বাওয়া। নিজেকে রীতির মা রানি তিওয়ারীর সাবেক সঙ্গী পরিচয় দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে একম দাবি করেন, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি রানি তিওয়ারীর সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেই সম্পর্ক ছিল।

রীতির আর্থিক কষ্টের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন একম। তার দাবি, রীতির কাছে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাগ রয়েছে। এছাড়া তার দামি গাড়ি ও মুম্বাইয়ে সম্পত্তি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একটি ক্রীড়াসামগ্রী ব্যবসার কথাও উল্লেখ করে একম দাবি করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত ক্রিকেটারদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব দাবি রীতির টিমের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তারা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

‘বিগ বস’-এর ঘরে সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে রীতির আচরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাজী তৌকীরের সঙ্গে তর্কের সময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য এবং কটু ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে বাবার নাম উল্লেখ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। ওই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে রীতির সমালোচনা করেন অনেক নেটিজেন।

পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে ‘উইকঅ্যান্ড কা ওয়ার’-এ। সঞ্চালক সালমান খান রীতির বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। কাজী ও উদিতি সিংকে নিয়ে রীতির ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে হিসেবে নিজের আচরণের মাধ্যমে বাবার সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথাও তাকে স্মরণ করিয়ে দেন সালমান। একপর্যায়ে সালমান মন্তব্য করেন, রীতি কাজী তৌকীরকে হিংসে করেন।

শুধু কথাবার্তা কিংবা সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে বিবাদ নয়, রীতির গান নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ‘বিগ বস’-এর ঘরে তার গান গাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ মশকরা শুরু করেন।

সব মিলিয়ে ‘বিগ বস ২০’-এ অংশ নেওয়ার পর রীতির পরিচিতি এখন শুধু মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। তার ব্যক্তিগত জীবন, বক্তব্য, আচরণ এবং ক্যারিয়ার ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তাকে নিয়মিত আলোচনায় নিয়ে আসছে।