tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিবিএনপি-জামায়াতের তিক্ততা: নির্বাচনী কৌশল, নাকি নৈতিক দ্বন্দ্ব?

বিএনপি-জামায়াতের তিক্ততা: নির্বাচনী কৌশল, নাকি নৈতিক দ্বন্দ্ব?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র—এখন একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে তীর ছুড়ছে। দুই দলের এই তিক্ত সম্পর্ক নিয়ে দলে দলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ওপরও।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের পেছনে মূলত নির্বাচনি কৌশল ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই কাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন,
‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটা আসলে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে তারা পরস্পরের প্রতিপক্ষ—এটাই স্বাভাবিক। তাই একে অপরকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন,
‘নির্বাচন এখন এক ধরনের যুদ্ধ। এবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। যেহেতু বিএনপি-আওয়ামী লীগের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, তাই বিএনপি বাধ্য হচ্ছে জামায়াতকে মোকাবিলা করতে। ফলে উভয় দলই একে অপরের দুর্বল দিক লক্ষ্য করে আঘাত করছে।’

তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে ভোটারদের দুই ভাগে বিভক্ত করার কৌশলও চালানো হচ্ছে। তবে এই বিভাজন কতটা নীতিগত এবং কতটা নির্বাচনি কৌশল—সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আলতাফ পারভেজ আরও বলেন,
‘যদি এটা নীতিগত অবস্থান হয়, তাহলে উভয় দলকেই আগে আত্মসমালোচনা করতে হবে। কারণ অতীতে তারা একে অপরকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে। আর যদি এটা শুধু কৌশলগত হয়, তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক—আমার মনে হয়, এর বড় অংশই কৌশলগত।’

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি অতীতের ইতিহাস জেনেও জামায়াতকে জোটে নিয়েছিল এবং জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিল। একইভাবে জামায়াত এখন বিএনপিকে দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিলেও তারাও একসময় বিএনপির ছায়াতলে থেকেই রাজনীতি করেছে এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিল। তাই সমালোচনা যদি নীতিগত হয়, তাহলে উভয় দলেরই আগে নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা উচিত।

ড. সাব্বির বলেন,
‘জামায়াত বহুদিন ধরে বিএনপির ছায়াতলে রাজনীতি করেছে। তাদের পুনর্বাসন হয়েছে বিএনপির মাধ্যমেই। বিএনপি ধরে নিয়েছিল যে জামায়াত সবসময় তাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু এখন জামায়াত নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে চাইছে, যা তাদের অধিকার। তবে বিএনপির জন্য তা সহজভাবে গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তিনি মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক জায়গায় জামায়াত শক্তিশালী হয়ে ওঠায় বিএনপির কাছে তারা এখন গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘তাই বিএনপি জামায়াতের দুর্বল জায়গায় আঘাত করবেই—এটা স্বাভাবিক,’ মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তিনি এটাও মনে করেন যে, এই বিরোধ সহিংস পর্যায়ে যাবে না—
‘এটা এমন হবে না যে পরস্পরকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার দিকে যাবে। পরিস্থিতি সহিংস মোড় নেবে বলে মনে হয় না।’