‘বাংলাদেশ যাতে চরমপন্থী ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠতে না পারে, সেই প্রত্যাশা করে বিএনপি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব শহীদের রক্তের দায় পরিশোধের সময় এসেছে। এই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল আস্থা প্রকাশের জায়গায় সবাইকে এক থাকতে হবে।
রোববার (১৭ আগস্ট.২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে ‘গণতন্ত্র উত্তরণে কবি সাহিত্যকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন এ কথা বলেন।
দেশে জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করতে ‘নির্বাচন একান্ত প্রয়োজন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দেশের মালিকানার একমাত্র দাবিদার এই দেশের সকল নাগরিক, এই সত্যটাকে যদি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই তাহলে মানুষের ভোটাধিকারের প্রশ্নে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, বাক স্বাধীনতার পক্ষে, একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
তারেক রহমান কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা যদি জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হই- এখানে আপনারা কবি-সাহিত্যিকরা লেখার স্বাধীনতার কথা বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন, আপনারা মত-পার্থক্য তুলে ধরার কথা বলেছেন, সমালোচনার কথা বলেছেন, আমরা সেই অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি যদি আমরা একটি একাউন্টেবল রাষ্ট্র ব্যবস্থা করে তুলতে সক্ষম হই। এবং সেটি একমাত্র করা সম্ভব মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সকল শহীদের রক্তের দায় পরিশোধের সময় এসেছে। এদেশের একজন কৃতজ্ঞ সন্তান হিসেবে আজকের এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আপনাদের-আমাদের সকলের কণ্ঠে ঐক্যের প্রতিধ্বনি উচ্চারিত হোক। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বিএনপি মিডিয়া সেলের আয়োজনে কবিতা পরিষদের কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়। কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কিছু দাবিনামাও তুলে ধরা হয়। কবি-সাহিত্যিকরাও তাদের লেখার স্বাধীনতার কথা বলেন।
কবি-সাহিত্যিকদের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এবং এরপর এক মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ ’২৪ সালে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের প্রতি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা বলতে পারি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেন এই মহাদেশের পরিচয়ের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঠিক এমনিভাবে কবিতা ও দেশাত্মবোধ সঙ্গীতকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাকার করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে দেশ গঠন ও দেশাত্মবোধের প্রেরণা নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’ এই গানকে তার দল বিএনপির দলীয় সঙ্গীতে পরিণত করেছে অনুপ্রেরণার গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে। শহীদ জিয়ার সেই আদর্শ আজও সমুন্নত জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতিটি নেতার কর্মীর মাঝে।’
‘এজন্যই কবি-সাহিত্যিকরা অসাধারণ, আমরা সাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ আমাদের কথাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন এবং আপনাদের যে মনোজগত আছে সেই মনোজগতের ভিতরে আপনারা স্থান নিতে পারেন আপনাদের গুণ দ্বারা। সেখানেই কিন্তু আমরা মনে করে নিতে পারি যে, আপনারা অসাধারণ এবং আমরা সাধারণ।’
কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান কবি নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদি আমীন, আমাদের সময়ের সম্পাদক লেখক আবু সাঈদ খান, কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা কবি মতিন বৈরাগী, সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, সহসভাপতি কবি অনামিকা হক লিলি, কবি এবিএম সোহেল রশীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি শ্যামল জাকারিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি নুরুন্নবী সোহেল, কবি শাহিন চৌধুরী রাখেন।



