ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর কারণে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে আয়োজক দেশ ভারত।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট পরিস্থিতি এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে তারা নিয়মিতভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিষয়ে দিল্লি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নির্ভর করছে ঢাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ভারত সরকারের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো কিংবা ম্যাচ অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব এখতিয়ার। এ বিষয়ে ‘প্রথম ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঢাকাকেই নিতে হবে’।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও জানায়, ‘বাংলাদেশ সরকার একবার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তবেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিক্রিয়া জানাবে। বল এখন তাদের কোর্টে। তারা ভারতে আসতে চায় কি না, সেটি পুরোপুরি তাদের সিদ্ধান্ত।’
এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ভারতে যাবে কি না—সে বিষয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের পরিচালকরা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অনড় অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কেও বোঝানো সম্ভব হবে।



